দেশ টেলিভিশন লিমিটেড, কর্ণফুলী মিডিয়া পয়েন্ট, ৪২, শহীদ সাংবাদিক সেলিনা পারভীন সড়ক, মালিবাগ, ঢাকা-১২১৭, বাংলাদেশ।
টেলিফোন: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৫৮, ৮৩৩২৯২২ ফ্যাক্স: +৮৮ (০২) ৮৩৩২৯৮১ মেইল: [email protected]

জেলা পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করতে যাচ্ছে সরকার। এ উদ্যোগে পিছিয়ে পড়া ও সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহ্দী আমিন।
বুধবার (১২ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর বাংলাদেশ চীন-মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে ‘এসডিজি অর্জনে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো বাস্তবায়ন: নীতি, অংশীদারিত্ব ও অগ্রাধিকার’ শীর্ষক জাতীয় সম্মেলনের দ্বিতীয় অধিবেশনে তিনি এ কথা বলেন।
মাহ্দী আমিন বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে বিভাগীয় পর্যায়ে ‘এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ’ চালু করা হবে। পরে এটি দেশের প্রতিটি জেলায় সম্প্রসারণ করা হবে। অনলাইন ও অফলাইন প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে চাকরিপ্রার্থী ও নিয়োগকর্তাদের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করা হবে। এ জন্য কারিগরি দক্ষতা উন্নয়ন, সক্ষমতা বৃদ্ধি ও কার্যকর রেফারেল ব্যবস্থা গড়ে তোলা হবে। দক্ষতা উন্নয়নে বেসরকারি খাতকেও যুক্ত করা হবে।
তিনি বলেন, কর্মসংস্থানের চাহিদা ও জোগানের মধ্যে সরাসরি সংযোগ তৈরি করাই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য। এ নিয়ে সরকারের বিভিন্ন দপ্তরের মধ্যে ইতোমধ্যে কয়েক দফা আলোচনা ও পরামর্শ হয়েছে।
সমাজের কোনো নাগরিক যেন জাতীয় প্রবৃদ্ধি ও উন্নয়নের ধারা থেকে পিছিয়ে না পড়েন, সেটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলে জানান মাহ্দী আমিন। সুবিধাবঞ্চিত জনগোষ্ঠীকে অর্থনীতি ও সামাজিক সুরক্ষার মূলধারায় যুক্ত করাও এ উদ্যোগের অন্যতম লক্ষ্য বলে তিনি উল্লেখ করেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র বলেন, দেশের সব শ্রেণি-পেশার মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন ও টেকসই নাগরিক সমস্যা সমাধানের মাধ্যমে অন্তর্ভুক্তিমূলক উন্নয়ন নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। প্রতিটি নাগরিকের সামাজিক, রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করাই সরকারের অন্যতম লক্ষ্য।
জ্বালানি খাতের সংকট প্রসঙ্গে মাহ্দী আমিন বলেন, দীর্ঘদিনের প্রশাসনিক ও অবকাঠামোগত সমস্যার কারণে এ খাত বড় চ্যালেঞ্জের মুখে রয়েছে। সম্প্রতি একটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনাল (এফএসআরইউ) কারিগরিভাবে বিকল হওয়ায় গ্যাস সরবরাহে সাময়িক সংকট তৈরি হয়েছে। সংকট সমাধানে কাজ চলছে। মধ্যমেয়াদে জ্বালানি সংকটের টেকসই সমাধানের পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও দেশীয় গ্যাস অনুসন্ধানে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং শিক্ষা ও স্বাস্থ্য খাতে পরিবর্তনের মাধ্যমে বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকারও ব্যক্ত করেন তিনি। স্বাস্থ্য খাতে শিগগির এক লাখ নতুন পদ সৃষ্টি করে জনবল নিয়োগ দেওয়া হবে জানিয়ে মাহ্দী আমিন বলেন, এর মধ্যে ৮০ হাজার পদে নারীদের অগ্রাধিকার দেওয়া হবে।
শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের শুধু প্রাতিষ্ঠানিক যোগ্যতা নয়, বাস্তবভিত্তিক দক্ষতা ও সামাজিক মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তোলা হবে। পর্যায়ক্রমে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে মধ্যাহ্নভোজ ও অভিন্ন পোশাক চালুর উদ্যোগ নেওয়া হবে। গ্রাম ও শহরের শিক্ষার্থীদের মধ্যে ডিজিটাল বৈষম্য কমাতেও কাজ চলছে।
মাহ্দী আমিন জানান, নির্বাচনের পরপরই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির বাস্তবায়ন শুরু হয়েছে। পরিবারের নারীদের স্বনির্ভরতা বাড়ানোর পাশাপাশি প্রান্তিক কৃষকদের জন্য ‘কৃষক কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে কৃষকেরা তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক সেবা ও আবহাওয়ার পূর্বাভাস সরাসরি পাবেন।
অনুষ্ঠানে মহিলা ও শিশুবিষয়ক এবং সমাজকল্যাণমন্ত্রী এ জেড এম জাহিদ হোসেন, সিপিডির সম্মাননীয় ফেলো দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য, বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সেলিমা রহমান ও সংসদ সদস্য মাধবী মারমাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এমএম/